সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
এসএসসি পরীক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করায় ৬মাসের জেল, আনসার সদস্য আহত ডিসি মমিনুরের বিরুদ্ধে চক্রান্তের প্রতিবাদে ১০১ বীর মুক্তিযোদ্ধার বিবৃতি চট্টগ্রামে সীরাত মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় ৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের ১০% ছাড় দিচ্ছে হাঙ্গার কিলার্স লোহাগাড়ায় ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই ৬৮ জন শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: মোছলেম উদ্দীন এমপি চট্টগ্রামে একে-২২ রাইফেলসহ ৩ ডাকাত আটক লোহাগাড়ায় পাহাড় কাটার দায়ে ২ জনকে কারাদন্ড লোহাগাড়ায় অভিযানে দোকানদারকে লাখ টাকা জরিমানা পটিয়ায় সাবেক মেয়রের ছেলের গুলিতে মা নিহত

লোহাগাড়ায় অন্যের বসতবাড়ি ভেঙ্গে পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
  • ১১৩ নিউজ ভিউ

লোহাগাড়া উপজেলায় বসতবাড়ি ভেঙ্গে পাকা ঘর নির্মাণ করতেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সময় তারা ভোক্তভূগি পরিবারের আসবাবপত্র ও গাছপালা কেটে লুট করেছেন। এতে তাদের প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

৩০ অক্টোবর শনিবার সকালে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই দিন জমির মালিক মৃত ওবাইদুল হকের পুত্র মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (৪০) লোহাগাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৬জনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়ি এলাকার মৃত মামুনুর রশিদের পুত্র মো. নাছির উদ্দীন (৬০), মো. হাফিজ উদ্দীন(৪৩), মো. আজিজ উদ্দীন (৩৮) ও মো. নঈম উদ্দীন (৩৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী কুতুব উদ্দীন ও অভিযুক্তরা একই বাড়ির লোক হয়। বাদীর দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় বসতবাড়ি বিবাদীগণ অন্যায় ও অহেতুকভাবে দাবী করে দখল করার চেষ্টাসহ উক্ত বসতবাড়ি ভেঙ্গে জোরপূর্বক পাকা বাড়ি করবে মর্মে কিছুদিন থেকে বিভিন্ন প্রকারের ভয়-ভীতি, হুমকি-ধমকি প্রদান করে আসতেছে। এই বিরোধ সংক্রান্তে বাদী পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে বিবাদীগণের সাথে আপোষের চেষ্টা করেন। কিন্তু, বিবাদীগণ প্রভাবশালী ও সম্পদ লোভী প্রকৃতির লোক হওয়ায় তাহারা এলাকার কারো কথা না শুনে বাদীর বসতবাড়ি জোরপূর্বক জবরদখল করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিবাদীগণ ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টার সময় বাদীর ভোগদখলীয় বসতভিটায় লোহা, ইট, বালু, কংক্রিট ও কাট মজুদ করে বাদীর দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় বসত ভেঙ্গে পাকা বাড়ি নির্মাণ করার কাজ করতেছে এমন খবর পেয়ে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা গিয়ে বিবাদীগণের এহেন অন্যায় কাজে বাধা দেয়। ফলে, বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও তার পরিবারে অন্য সদস্যদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করতে উদ্যত হয়। ওই সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ বলেন, বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর ও অঙ্গহানি করবে, পাকা বাড়ির নির্মাণ কাজ চলতে থাকবে এবং বাদীগণকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে মর্মে প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দেয়। বর্তমানেও বিবাদীগণের হুমকি-ধমিক অব্যাহত রয়েছে। ফলে, বিবাদীগণ কর্তৃক বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর যে কোন অঘটনসহ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশংকা রয়েছে। বর্তমানে বাদীপক্ষগণ হুমকি-ধমকির ভয়ে জানমালের পরিপত্তাহীনতায় ভূগেতেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।

বাদীর পরিবার ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে বিবাদীরা ১০/১৫ জন লোক নিয়ে কুতুব উদ্দীনের বসতবাড়িতে যান। পরে, তারা কুতুব উদ্দীনের বাড়ি ভেঙ্গে সেখানে পাকাবাড়ি নির্মাণের কাজ করতেছেন। তারপর বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা এসে বিবাদীগণের অন্যায় কাজে বাধা দেয়। তারপর বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করতে উদ্যত হয়। বিষয়টি লোহাগাড়া থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হতে বলেন। বর্তমানে বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে জানা যায়।

জায়গার মালিক কুতুব উদ্দীন বলেন, আমাদের পরিবারের কেউ বাড়িতে থাকে না। এই সুযোগে বিবাদীগণ ও তাদের সহযোগীরা আমাদের বাড়ি ভেঙ্গে পাকাবাড়ির নির্মাণের কাজ করতেছেন। ওই সময় তারা আসবাবপত্র ও গাছপালা কেটে লুট করেছেন। এতে আমাদের বসতবাড়ির মূল্য ও অন্যান্য সবকিছু মিলে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছেন বিবাদীগণ। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠ বিচার চায়।

তবে, অভিযুক্ত মো.নাছির উদ্দীন দাবি করেন, তারা পৈত্রিকসূত্রে ওই জায়গার মালিক। তিনি ও অন্য ভাইয়েরা মিলে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এতে তার জেঠাতো ভাই কুতুব ও তার অন্য ভাইয়েরা কাজে বাধা প্রদান করতেছে। তিনিও লোহাগাড়া থানায় কুতুব উদ্দীনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মাহমুদ বলেন, উভয়ের অভিযোগ পেয়েছি। ওই বাড়ির নির্মাণ কাজ যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় থাকবে। পরে, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 Daily Chattagram
Developed By Shah Mohammad Robel