মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
লোহাগাড়ায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা নির্মাণ লোহাগাড়ায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজ লোহাগাড়ায় নৌকার বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে না আনার দাবি তৃণমূলের পুলিশ সদস্যের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় প্রধান আসামী কবিরসহ গ্রেপ্তার ২ লোহাগাড়ায় বসতঘর ও কবরস্থানের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ লোহাগাড়ায় ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন লোহাগাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘর ভাংচুর লোহাগাড়ায় রোহিঙ্গাদের ভোটার না করার বিষয়ে সতর্ক করলেন ইউএনও।। চট্টগ্রাম অবৈধভাবে মাটি কাটায় লোহাগাড়ায় ডাম্প ট্রাক ও এক্সকেভেটর জব্দ লোহাগাড়া থেকে একজন মানবিক ইউএনও’র বিদায়

চরম্বায় নৌকা প্রতীকে সাইফুল আলমকে দেখতে চায় এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৫ নিউজ ভিউ
সাইফুল আলম চৌধুরী

লোহাগাড়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে এই তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর থেকে পুরো উপজেলাজুড়ে বইছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া।
এদিকে, আসন্ন চরম্বা ইউপিতে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নৌকার মাঝি হতে চান আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাইফুল আলম চৌধুরী। সে লক্ষ্যে এলাকায় নীরবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁকে নিয়ে প্রচারনায় সরব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজগুলিও। এসব প্রচারণায় ইতিবাচক সাড়া মেলেছে সর্বমহলে। তাই, এই আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে ইউনিয়নের সকল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
মো. সাইফুল আলম চৌধুরী উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নাছির মোহাম্মদ পাড়া এলাকার মরহুম আলহাজ্ব মাষ্টার আবদুল মজিদের পুত্র। তার মরহুম পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও তার পিতা চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে ১৯৮৭-১৯৯২ ইং পর্যন্তনিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। সাইফুল আলম চৌধুরীর পিতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার পিতা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সাইফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৭ইং সনে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে এমএ পাস করেছেন। এছাড়া তিনি   এলএলবি পাসও করেন। পেশায় সাইফুল আলম একজন ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লাস্থ মোমিন রোড এলাকায় তার তামিম এক্সসরিচ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মৎস্য খামার ও গাছ বাগান আছে।
জানা যায়, সাইফুল আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণের সুবাদে শৈশব থেকেই সংগ্রামী চেতনার সুমহান উত্তরাধিকার বহন করছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুল জীবন থেকেই, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন মো. সাইফুল আলম চৌধুরী। লিখাপড়ার পাশাপাশি একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেন তিনি।
সাইফুল আলম চৌধুরী সর্বপ্রথম ১৯৮৬ ইং সালে চরম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে, ১৯৮৯ সালে বারআউলিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করেন। তারপর, ১৯৯১ সালে সাতকানিয়া সরকারী কলেজের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে, ২০০৪-২০১৫ ইং সাল পর্যন্ত তার জন্মস্থান চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘ ১১ বৎসর নিষ্ঠার ও সততার সহিত দায়িত্ব পালন করেন। তারপর, ২০১৪ ইং সালে লোহাগাড়া থানা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসাবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাশাপাশি তিনি চরম্বা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়া করছেন। ছাড়াও চরম্বা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসতেছে তিনি। অসংখ্য বার জামাত-শিবিরের হামলার শিকার হয়েছেন। তার উপর অর্পিত দায়িত্ব জীবনবাজী রেখে নৌকা মার্কার জাতীয় নির্বাচন করেন এবং ককটেলের হামলার শিকার হয়। ২০১৪ সালে আমার ছোট মামা চরম্বা যুবলীগের নেতা মো. লুৎফর রহমান জামাত শিবিরের হামলায় শিকার হইয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল।
উল্লেখ্য যে, তার চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন বলেও জানা গেছে। এছাড়াও তার ভাতিজা যুবলীগ কর্মী মো. আবু তাহের ২০১৪ সালে জামাত শিবিরের তান্ডবের সময় হামলার শিকার হয়। তাকেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
সাইফুল আলম চৌধুরী ২০১৫ ইংরেজী সালে চরম্বা নাছির মো. পাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে। দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন সম্যকভাবে। ফলে, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছে এ আওয়ামী লীগ নেতার।
রাজনীতির দুর্দিনে ও নানান আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন সাইফুল আলম চৌধুরী।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এবার নৌকার মাঝি হিসেবে সাইফুল আলম চৌধুরী উপযুক্ত। তাই, মনোনয়ন বোর্ডের কাছে, এলাকার আওয়ামী লীগের, সাধারণ কর্মীরা দাবি করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
চরম্বার এলাকার লুৎফুর রহমান বলেন, বর্তমানে চরম্বা ইউনিয়নে নেতৃত্বের শুন্যতা বিরাজ করছিল। কিন্তু, সাইফুল আলম আসায় সেই শুন্যতা নেই, আমরা ওনাকেই নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চাই।
স্থানীয় খায়ের আহমদ বলেন, সামাজিক কাজে, মানুষের বিপদ-আপদে ও রাত-বিরাতে যে কোন সময় আলমকে পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনি এই করোনা মহামারীতে এলাকায় সর্বত্রই অসহায় পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা তাকেই এবার চেয়ারম্যান হিসেবে নৌকা প্রতীকে দেখতে চাই।
মাষ্টার বদিউল আলম নামে এক বাসিন্দা জানান, গরিব ও মেহনতি মানুষের সুখে দুঃখে রাত-বিরাতে সব সময় পাশে দাঁড়ান সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তাকে আমরা সকলেই ভালোবাসি। চেয়ারম্যান হিসেবে নৌকা প্রতীকে আমরা আলম ভাইকে চাই।
মো. আক্তার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, আলম ভাই আমাদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকেন। তার দ্বারা সমাজের উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষের উপকারে তিনি সর্বদা কাজ করেন।
এ ব্যাপারে মো. সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, রাজনীতির হাতেখড়িটা হয়েছিল মূলত বাবার কাছ থেকে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করেই ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। দলের সুসময়-দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। রাজপথের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী নির্বাচনে আমাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করতে কাজ করছে ওই ইউনিয়নের বিশিষ্টজনেরা। করোনা মহামারীতে এলাকায় এমপির নির্দেশে আমি অত্র ইউনিয়নসহ উপজেলার সর্বত্রই অসহায় পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি, আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিতে এবং নির্বাচিত করতে তরুণ প্রজন্মের যুবক মাঠে কাজ করছে, চরম্বা ইউনিয়নের সাধারণ জনগনের দাবি একটাই পরিবর্তন। আশা করি দলে সেটি মূল্যায়িত হবে। দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার জয় নিশ্চিত করে চরম্বা ইউনিয়নকে একটি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা গঠিত। পূর্বে, লোহাগাড়া সদর , আমিরাবাদ ও আধুনগর এই ৩টি ইউপি’র নির্বাচন হয়ে গেছে। বাকী রয়েছে ৬টি ইউপি’র নির্বাচন। এগুলো হলো- চুনতি, পুটিবিলা, কলাউজান, পদুয়া, চরম্বা ও বড়হাতিয়া ইউনিয়ন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 Daily Chattagram
Developed By Shah Mohammad Robel