শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন : ৬৮ প্রার্থীর প্রতীক প্রদান কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম পুণরায় বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ সভাপতি মনোনীত এসএসসি পরীক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করায় ৬মাসের জেল, আনসার সদস্য আহত ডিসি মমিনুরের বিরুদ্ধে চক্রান্তের প্রতিবাদে ১০১ বীর মুক্তিযোদ্ধার বিবৃতি চট্টগ্রামে সীরাত মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় ৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের ১০% ছাড় দিচ্ছে হাঙ্গার কিলার্স লোহাগাড়ায় ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই ৬৮ জন শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: মোছলেম উদ্দীন এমপি চট্টগ্রামে একে-২২ রাইফেলসহ ৩ ডাকাত আটক লোহাগাড়ায় পাহাড় কাটার দায়ে ২ জনকে কারাদন্ড

পদোন্নতি বঞ্চনায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ

মো. জসিম উদ্দীন
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ৭১ নিউজ ভিউ
প্রতীকী ছবি

ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অ্যাসিসটেন্ট টাউন সাব-ইন্সপেক্টরর (এটিএসআই) ও টাউন সাব-ইন্সপেক্টররা (টিএসআই) দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ দুই পদে চাকরি করে পদোন্নতি ছাড়াই গভীর হতাশা নিয়ে অবসরে চলে যাচ্ছেন অনেকে।

প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট যেকোনো দুর্যোগে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে বিরতি নেই। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি নিরবচ্ছিন্ন শ্রম দিয়েও একটু উনিশ-বিশ হলে অপবাদ শুনতে হয় ট্রাফিক বিভাগে কর্মরতদের। উপরন্তু এই বিভাগে যোগদান করা (এএসপি বা তদূর্ধ্ব বাদে) সদস্যদের পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়া এবং শূন্যপদ না থাকায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরও পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম রেঞ্জে এ ধরণের দু’ শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আর সারা দেশে এ সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০। নতুন পদ সৃষ্টি করা না গেলে টিএসআই ও এটিএসআইদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে সূত্রগুলো জানায়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীতে সবচেয়ে অবহেলিত পদ এটিএসআই ও টিএসআই। এ দুই ক্যাটাগরির পদে বছরের পর বছর চাকরি করেও পদোন্নতির দেখা পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ১৫ থেকে ৩০ বছর একই পদে কর্মরত থেকে অবসরে যাওয়ার নজিরও আছে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। সম্প্রতি পুলিশবাহিনীতে যেসব নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেও টিএসআই পদ রাখা হয়নি। পদ অনুযায়ী টিএসআইদের দায়িত্ব পালন করার কথা পুলিশ ফাঁড়িতে। কিন্তু তারা কাজ করছেন ট্রাফিক পুলিশে। ফাঁড়িগুলো ব্যবহার করছে থানা পুলিশ।

১৯৮৩ সালে পুলিশ কনস্টেবল হিসাবে চাকরিতে যোগ দেন লিটন কান্তি নাথ (ছদ্মনাম)। অ্যাসিসটেন্ট টাউন সাব-ইনস্পেকটর (এটিএসআই) পদে পদোন্নতি পান ১৯৯৮ সালে। ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি টিএসআই (টাউন সাব-ইনস্পেকটর) পদে পদোন্নতির জন্য ১১ বারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং প্রতিবারই পাশ করেন।

কিন্তু পদোন্নতি আর ভাগ্যে জোটেনি। তিনি ২০২৩ সালে অবসরে যাবেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে করতে হয়রান হয়ে গেছি। এখন আর পরীক্ষায়ও অংশ নিই না। কারণ আর পরীক্ষা দিয়ে লাভ নেই। ছোট চাকরি করি।

পোড়া কপাল। আমাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। আশা ছিল, একদিন ইন্সপেক্টর হব। কিন্তু এখন আর সেই স্বপ্ন নেই। এভাবে এক যুগ থেকে দেড় যুগের বেশি সময় পদোন্নতিবঞ্চিত আছেন পুলিশের ২ হাজারের বেশি।

পুলিশের মহাপরিদর্শক কার্যালয় থেকে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সচিব কমিটিতে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে অ্যাসিসট্যান্ট টাউন সাব-ইনস্পেকটর (এটিএসআই) ও টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) পদ বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়।

এটিএসআই পদকে সহকারী সার্জেন্ট আর টিএসআই পদকে সার্জেন্ট হিসাবে নতুন নামে করার প্রস্তাব করা হয়। সচিব কমিটি ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়। এছাড়া কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী সার্জেন্ট এবং হওয়ার সুযোগ রাখতে বলা হয় প্রতিবেদনে।

এছাড়া সার্জেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ সহকারী সার্জেন্ট থেকে পদোন্নতি পরীক্ষার মাধ্যমে আর ৭০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সচিব কমিটির কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

কয়েকজন এটিএসআই বলেন, তারা সবাই কনস্টেবল হিসাবে চাকরিতে প্রবেশ করেন। বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়ে এটিএসআই পদে পদোন্নতি পান। এটিএসআই থেকে টিএসআই হতে গেলে প্রতিবছর ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে হয়।

ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত একাধিক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ও সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীরবে কাজ করে যেতে হয় এই সেক্টরে। আবার এখানে প্রত্যাশাও বেশি। দিন-রাত রাস্তায় থাকায় নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সাইনোসাইটিস, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা সারা বছরই লেগে থাকে।

পরীক্ষায় পাশ করলে পরবর্তী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্রমোশন বা পদোন্নতি হওয়ার নিয়ম। কিন্তু সেই প্রমোশন আর হয় না। ফলে প্রমোশনের জন্য পরের বছর আবার পরীক্ষা দিতে হয়। তাছাড়া টিএসআই থেকে টিআই হওয়ারও সুযোগ রাখা হয়নি।

সরাসরি পুলিশ সার্জেন্ট থেকেই টিআই বা টাউন ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। অবস্থা এমন হয়েছে যে, অবহেলিত এটিএসআই ও টিএসআইদের দিকে তাকানোর বা তাদের দুঃখ বোঝার যেন এখন আর কেউ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশবাহিনীতে এএসআই (অ্যাসিসটেন্ট সাব-ইন্সপেক্টর) ও এটিএসআইরা একই সুযোগ-সুবিধা ও বেতনভাতা ভোগ করেন। কনস্টেবল থেকে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পদোন্নতি পেয়ে এএসআই থেকে এসআই, এসআই থেকে পরিদর্শক এবং পরিদর্শক থেকে এএসপি বা এসি পদেও পদোন্নতি পান।

একইভাবে কনস্টেবল থেকে এটিএসআই, এটিএসআই থেকে টিএসআই, টিএসআই থেকে পুলিশ পরিদর্শক হওয়ার কথা। কিন্তু শূন্যপদ না থাকার কারণে বছরের পর বছর টিএসআই ও এটিএসআইরা বঞ্চিত হয়ে আসছেন। অথচ পদোন্নতির জন্য প্রতিবছরই পরীক্ষা নেওয়া হয়। কোনো টিএসআই অবসরে গেলেই কেবল ওই শূন্যপদে এটিএসআইদের পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 Daily Chattagram
Developed By Shah Mohammad Robel