মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

বিদ্যালয়ের সামনে দিঘী, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

এইচ এম জসিম উদ্দীন
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৪ নিউজ ভিউ

বিদ্যালয়ে মাঠ থাকার পরও শিক্ষার্থীরা বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যা কারণ, এ বিদ্যালয়ের মাঠ ঘেঁষে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি বিশাল দিঘী। এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনাসহ শিক্ষার্থী ডুবির ঘটনাও ঘটেছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করে। আর সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে শঙ্কায় থাকেন অভিভাবকগণ। একই অবস্থা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউয়িনের উত্তর পদুয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের।

জানা যায়, উপজেলার এ বিদ্যালয়টি ১৯৪১ সালে স্থাপিত। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ শতাধিক। তাদের পড়ানোর জন্য শিক্ষক আছেন ৯ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়ালেও কয়েকটি সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। মাঠ সংলগ্ন দিঘীতে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ঝুঁকিতে খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় তাদের খেলার সামগ্রীগুলো পুকুরে পড়ে যায়। এ কারণে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনার। গত বছর এক ছাত্রী পড়ে গিয়েছিল। এদিকে, বিদ্যালয়ের নিরাপদ ও সুপেয় খাবার পানির সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেখানে স্থাপিত গভীর নলকূপটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে খাবার পানির অভাবে ভুগছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম বলে, আমাদের খেলার মাঠ থাকার পরও দিঘীতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক সময় আমরা বারান্দায় খেলি। মাঠে খেলতে গেলে দিঘীতে খেলনা পড়ে যায়। সেটা আনতে একদিন আমাদের এক বান্ধবী দিঘীর পানিতে পড়ে গিয়েছিল।

স্থানীয় অভিভাবক আবদুর রহিম জানান, দূর-দূরান্ত এখানে অনেক কোমলমতি শিশুরা পড়তে আসে। কিন্তু স্কুলটির নেই সিমানা প্রাচীর। খেলার মাঠ থাকার পরও অনেকে ভয়ে খেলে না। শিশুরা পাশের পুকুরে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্কুলটি সন্তানদের জন্য নিরাপদ নয়।

মো. ইলিয়াছ নামের আরেক অভিভাবক বলেন, স্কুলে খেলার মাঠ থেকেও নাই। পুকুরে বাউন্ডারিওয়াল না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। তাছাড়া পানির অভাবও রয়েছে স্কুলটিতে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ বলেন, পুকুর মালিকদের অনেকবার অনুরোধ করেছি। যদি একটু সংস্কারের উদ্যোগ নিতেন তাহলে আমরা সাধ্যমত এগিয়ে আসতাম। তাঁরা ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড না থাকায় সংস্কার কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসকে কয়েকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি।

বিদ্যালয় সংলগ্ন দিঘীর মালিক আমানুল হক বলেন, আমিও এ বিদ্যালয়ের কমিটিতে আছে। আমরা এ বিষয়গুলি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সমাধান করার চেষ্টা চালাচ্ছি।

সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশটা খুবই সুন্দর। রয়েছে বিশাল ভবন। এ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষক আছেন ৯জন। শিক্ষার্থীও রয়েছে প্রচুর। কিন্তু, শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকসহ অভিভাবকরা থাকেন নানা দুশ্চিন্তায়। কারণ, বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে রয়েছে অনিরাপদ দিঘী। তাতে বাউন্ডারীওয়াল নেই। ফলে, ঝুঁকি নিয়ে খেলতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদেরকে। সাঁতার না জানা এসব শিক্ষার্থী যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গেই খেলা করছে। আর এ স্কুলে নিরাপদ ও সুপেয় খাবার পানির সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেখানে স্থাপিত গভীর নলকূপটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে খাবার পানির অভাবে ভুগছে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা।

এলাকার অভিভাবক নুরুল কবির জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য পুকুরটি একটা আতঙ্ক। আর খাবার পানির অভাবে ভুগছে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছি। তাঁরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দু ছোবহান বলেন, এক বছর পূর্বে আমার নাতীও এ দিঘীতে পড়ে গিয়েছিল। আমরা স্কুল পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ সবসময় টেনশনে থাকি এ দু’য়েকটি সমস্যা নিয়ে। এ সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান চেষ্টা চালাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনির উদ্দীন জানান, এ অভিযোগগুলি পেয়েছি। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শরীফ উল্যাহ্ বলেন, বিষয়গুলি আমি জানতাম না। আমাকে কেউ জানায়নি। আর আমি নিজেও এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 Daily Chattagram
Theme Customized By Shah Mohammad Robel